Press Release 01-11-2018

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

চট্টগ্রাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় রশিদুল আলম

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে

নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার আহবান 

চট্টগ্রাম- ০১ নভেম্বর ২০১৮

স্বাধীনতা অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক নৌকা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহবান জানান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ কমিটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রশিদুল আলম। তিনি আজ বৃহষ্পতিবার সকালে নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল হাশেম এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন দঃ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ,মহানগর আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি  মাহতাব  উদ্দিন চৌধুরী  উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম, সালাম, দঃ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক  মফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য, কে, এম, ফরহাদ হোসেন , আবদুল হক,  মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমদ, নোয়াখালী কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলন,ফেনী কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান,  খাগড়াছড়ি কমান্ডার রইস উদ্দিন, বান্দরবান কমান্ডার ক্যাপ্টেন আবুল কাসেম, রাঙ্গামাটি কমান্ডার রর্বাট পিন্টু, ডেপুটি কমান্ডার মো. নুরুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. হানিফ পাটোয়ারী, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছার। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নঈম উদ্দিন চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন, মো. ইদ্রিস, এম মোতলেব, নুরুল হক বীর প্রতীক, দেবাশীষ গুহ বুলবুল, আবু সাঈদ সরদার, নুর আহমদ, শফর আলী, এম ইসলাম, শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ, শেখ মাহমুদ ইসহাক, সরওয়ার কামাল দুলু, মহিউদ্দিন রাশেদ প্রমূখ।

জনাব রশিদুল আলম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুক্তিযোদ্ধা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আওয়ামীলীগের পতাকা তলে মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। নয়মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ৭১ সালে আজকের বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযোদ্ধারা যাতে সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারে তজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিবিধ প্রকল্প গ্রহন করেন। তার কাছে কোন কিছু চাওয়ার প্রয়োজন নেই। চাওয়ার আগেই তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে থাকেন। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে জনাব রশিদুল আলম বলেন  সেই পরাজিত গোষ্টি তাদের দোসররা নিরবে বসেছিলেন না তারা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন ঘুরে দাড়াচ্ছিল অর্থনীতির চাকা যখন সচল হলো, মানুষের জীবন যাত্রা যখন সম্পুর্ন স্বাভাবিক হয়ে আসছিল , বিশ্ববাসী যখন বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বকে মেনে নিয়েছিল-সেই সময় তারা বঙ্গবন্ধুকে -পরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চেয়েছিল। এই প্রসঙ্গে জনাব আলম বলেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশকে আবার পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়। দেশের মানুষের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস মুছে ফেলা,নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ থেকে বিরত এবং এর বিকৃতি করে তারা দেশকে এক ভয়ংকর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।   তিনি বলেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রানৈতিক দল আওয়ামীলীগ। এই দল সকল ষড়যন্ত্র চক্রান্তের বেড়াজাল ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা  জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে সামরিক ¯^রাচার পাকিস্তানবাদী শক্তিকে পরাজিত করে ১৯৯৬,২০০৮ ২০১৪ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে। এরপর তিনি দেশকে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। তাই আমাদের মধ্যে বিভেদ নয়-ঐক্যই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলমন্ত্র বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে। প্রসঙ্গে মেয়র বলেন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সনের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত,২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তখন বাংলাদেশের মানুষ উন্নত সমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারবে। উন্নত জীবন যাপনের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দেশের মুক্তিযোদ্ধা সহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন বলে ঘোষনা দেন। 

 

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কার্যক্রম উদ্বোধন :

আজ বৃহষ্পতিবার বিকেলে নগরীর এম আজিজ ষ্টেডিয়াম চত্বরে  মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক সচিব যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলম। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম এর  সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রশিদুল আলম বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনতে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার সফলতা কামনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন বিজয় মেলাকে সুন্দর সুশৃংখলভাবে পরিচালনা করার জন্য বিজয় মেলা পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।  অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব কমান্ডার সাহাব উদ্দিন এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য এম কে ফরহাদ হোসেন, আবদুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, শেখ মাহমুদ ইসহাক,আবু সাইদ সরদার, মো. ইদ্রিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন হাজী বেলাল আহমদ সহ বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা। এর পূর্বে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ্যালী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ কমিটির চেয়ারম্যান রশিদুল আলম সিটি মেয়র  নাছির উদ্দীন এর নেতৃত্বে একটি ্যালী বিজয় মেলা পরিষদ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। 

 

সংবাদদাতা

রফিকুল ইসলাম

জনসংযোগ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন