Press Release 07-11-2018

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

চট্টগ্রাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

একনেকে চসিকের বাড়ই পাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত

নতুন খাল খনন এবং সর্বাধুনিক কসাইখানা  প্রকল্প  অনুমোদন

চট্টগ্রাম- নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগরীর বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন (সংশোধিত) এবং প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরে একটি সর্বাধুনিক কসাইখানা নির্মাণ প্রকল্পের  অনুমোদন দিয়েছেন অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বুধবার  শেরে বাংলা নগরে এনইসিতে একনেকের সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হয়। বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত নতুন খাল খনন গৃহিত প্রকল্পটি প্রাক্কলিত ব্যয় ১হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং সর্বাধুনিক কসাইখানা (স্লটার হাউজ) এর জন্য ৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী ২০২০ সনের জুন পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়েছে।  অনুষ্ঠিত একনেক সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দীন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামসুদ্দোহাও উপস্থিত ছিলেন।

নগরীর বহদ্দার হাট বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আলোচিত প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ২৪শে জুন একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহন এবং অর্থ ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। মেয়াদ চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি সংশোধিত হয়ে ১হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন খালটি নগরীর বহদ্দাহাট বাড়ইপাড়াস্থ চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ আমানত রোড হয়ে নুর নগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া দিয়ে পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলির হাটের পাশে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক দশমিক কিলোমিটার এবং প্রশস্ত ৬৫ফুট। খালটির মাটি উত্তোলন, সংস্কার নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে খালের উভয় পাশে ২০ফুট করে ২টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে।চসিক সূত্রে জানা গেছে,২০১৪ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকায় ২০১৫ সালে ১৩ আগষ্ট প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। ওই সময় প্রকল্পের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০১৪ সালের ১জুলাই থেকে ২০১৭সালের ৩০জুন পর্যন্ত। এদিকে ২০১৭ সালের জানুয়ারীতেও প্রকল্পটি সংশোধন করে মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছিল চসিক।ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।কিন্তু পরবর্তীতে প্ল্যান কমিশনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি পুনরায় সংশোধন করে ৩৭৬ কোটি ১৩ লাখ টাকায় মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়।পরে একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় শর্ত দিয়ে প্রকল্প অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।এর প্রেক্ষিতে হাজার ২শ ২৪ কোটি ১১লাখ টাকায় আরডিপিপি তৈরি করা হয়, যা ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছিল।সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই প্রকল্পটির ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় একটিপর্যলোচনা সভা আয়োজন করে।সভায় প্রকল্পটিবাধা নেইমর্মে ঐক্যমতে পৌছান সংশ্লিল্টরা।একই সঙ্গে প্রকল্পের ডিপিপিতে বিদ্যমান  প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঙ্গে আরো তিন শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়।ভবিষ্যতে ভূমির মূল্য বেড়ে গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে কোনো জটিলতা দেখা না দেয় তা মাথায় রেখেই ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়।এর প্রেক্ষিতেই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আগামীতেও বর্তমান সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে আরো বড় প্রকল্প অনুমোদন দিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরে সিটি মেয়র জানান প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন খাল খনন হলে পানির ধারন ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া শুরু থেকেই খালটি পরিচর্যা করা গেলে তার সুফল নগরবাসী পাবেন। খালটির দুই পাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হবে। এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ফলে জনগণের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। মেয়র নির্দ্দিষ্ট সময়েও প্রকল্পটির কাজ শুরু না হওয়ার কারন হিসেবে বলেন প্রকল্পের প্রধান অংশ ভুমি অধিগ্রহণ। এই অধিগ্রহন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে। ওই দিন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভুমি অধিগ্রহনের আনাপত্তি ছাড়পত্রের আবেদন করেছিল চসিক। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের কাছে ভুমি অধিগ্রহন কার্যক্রমের জন্য পত্র দিয়েছিল চসিক। ওই সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে ভুমি অধিগ্রহনের জন্য সম্পুর্ন অর্থ প্রদানের পরামর্শ দেওয়া হয় চসিককে। যাতে অধিগ্রহণ কার্যক্রম একসঙ্গে করা সম্ভব হয়।

সর্বাধুনিক কসাইখানা(স্লটার হাউজ) : চট্টগ্রাম নগরীর পশু জবাই ব্যবস্থাপনা পরিবেশ রক্ষায় সর্বাধুনিক কসাইখানা(স্লটার হাউজ) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে  প্রাণী সম্পদ  অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম ছাড়াও ঢাকা খুলনা সিটিতেও এধরনের আধুনিক কসাইখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে। লক্ষ্যে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের জায়গা চেয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বরাবরে পত্র প্রেরণ করেন। তারই প্রেক্ষিতে চসিক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জায়গা প্রদানে আগ্রহের কথা জানিয়ে চিঠি দেয়  প্রকল্প পরিচালককে।এ আধুনিকস্লটার হাউজনির্মানে ৮৮ শতক জায়গা প্রদান করবে চসিক। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। নগরীর চান্দগাও পুরাতন থানা এলাকায় আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ হবে। এটি কেবলইস্লটার হাউজনয়  বড় মাপের একটি ইনষ্টিটিউশন। এতে থাকবে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা,আইসোলেশন,স্মার্ট ষ্টকিং স্পেস সুবিধা, প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা, রক্ত ওয়েষ্ট ম্যানেজমেন্ট শৃক্সখলা। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় তলা বিশিষ্ঠ ভবন, জবাই এরিয়া,একদিনেই জবাই করা যাবে ১শ পশু। অপেক্ষায় রাখা যাবে ৩শ পশু। পশুর নাড়িভুড়ি সহ শিং যেগুলো ফেলে দেয়া হয়, প্রকল্প হলে সেগুলো বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। এইস্লটার হাউজনির্মাণ প্রসঙ্গে মেয়র বলেনস্লটার হাউজপশু জবাই ব্যস্থাপনা পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে নগরবাসী মান সম্পন্ন হালাল মাংস পাবে। পরিবেশ স্মার্ট হলে এবং ক্ষুরারোগ সহ গবাদী পশুর নানা সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইংরেজীতে লেখা সাইনবোর্ডের বিরুদ্ধে

চসিকের মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত

চট্টগ্রাম- নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আফিয়া আখতার এবং স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস এর নেতৃত্বে আজ বুধবার সকালে মহানগর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালে নগরীর কাজীর দেউরী মোড় থেকে শুরু করে মেহেদীবাগ রোডের গোল পাহাড় মোড় পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫৫টি ইংরেজী সাইন বোর্ডে কালো রং দিয়ে মুছে দেয়া হয় এবং আগামী দিনের  মধ্যে উক্ত সাইনবোর্ডগুলো বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী সহ পুন: স্থাপনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ইতোপূর্বে মোবাইলকোর্ট কর্তৃক কালো রং দিয়ে মুছে দেওয়া সাইন বোর্ডে নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাসহ পুনস্থাপন না করে কালো কালো রং মুছে পূর্বের ন্যায় ইংরেজী সাইনবোর্ড প্রদর্শন করার দায়ে কাজীর দেউরীর এ্যাপোলো শপিং সেন্টার এর স্যামসাং মোবাইলের দোকানকে হাজার টাকা এবং অপ্পো মোবাইলের দোকানকে হাজার টাকা সহ মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।  এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী মেট্টোপলিটন পুলিশ ম্যাজিষ্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা প্রদান করেন।

 

সংবাদদাতা

রফিকুল ইসলাম

জনসংযোগ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন