Press Release 09-11-2017


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রাম- ৯ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.

২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডে পৌরকর সংক্রান্ত সুধী সমাবেশে-- সিটি মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অ্যাসেসমেন্টের উপর আপিল-আপত্তি দাখিলকারীদের আপিল রিভিউ বোর্ডের শুনানী অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে প্রায় সম্মানিত ৫৬ হাজার হোল্ডার আপিল আপত্তি দাখিল করেছে। তাদের আপিল পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি হচ্ছে। আপিল রিভিউ বোর্ড অনেকের পূর্বের পৌরকর বহাল এবং নামমাত্র ৫১ টাকা ধার্য্য সহ হোল্ডারদের মতামত আমলে নিয়ে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। মেয়র বলেন, নামমাত্র ৫১ টাকা পৌরকর যাদের উপর ধার্য্য হয়েছে বা হবে তাদের সকলের পৌরকর আমার নিজ তহবিল থেকে প্রতিবছর এক সাথে পরিশোধ করে দেব- যাতে গরীব জনগণের কষ্ট না হয়। মেয়র বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় পৌরকর পুনঃমূল্যায়ন হয়েছে। বিগত সাবেক মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আলহাজ্ব মোহাম্মদ মঞ্জুর আলমের সময়ও অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হয়েছিল। উভয়ের সাবেক মেয়র মহোদয়ের আমলে হোল্ডিং ট্যাক্স যে হারে নির্ধারিত হয়েছিল একই হারে বর্তমানেও পঞ্চবার্ষিকী পৌরকর পুনঃমূল্যায়ন হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তির বাহিরে ১% পৌরকর বৃদ্ধি করার কোন ক্ষমতা রাখে না। তা সত্তে¡ও পৌরকর বৃদ্ধি করার অপবাদ তুলে জনগণের নিকট মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে- যা কাম্য নয়। তিনি বলেন, যারা ¯^চ্ছায়, স্বজ্ঞানে মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে তাদের বিষয়ে বিবেচনার ভার নগরবাসীর উপর অর্পিত হলো। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার ট্যাক্সের উপর ভিত্তি করেই দেশের কার্যক্রম পরিচালনা করে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। সে বিবেচনায় সম্মানিত হোল্ডারদের নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করার আহবান জানান মেয়র। সুধী সমাবেশে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ১৯৯৪-১৯৯৫ সন থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছর পর্যন্ত পৌরকর নির্ধারণ, পুনঃমূল্যায়ন এর তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেন, বিগত সকল মেয়রের আমলে হোল্ডারদের পৌরকর বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান অ্যাসেসমেন্ট চলাকালে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে পৌরকর নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ করার সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতি মাসে প্রশাসনিক ব্যয় ছিল ৯ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ২০ কোটি টাকায় পৌছেছে। বর্তমান চসিকের জনবল প্রায় সাড়ে ৯ হাজার। এর সাথে উৎসব ভাতা, নববর্ষ ভাতা যুক্ত হয়েছে।  তিনি বলেন, ১৯৯৪-১৯৯৫ সনে বাৎসরিক প্রশাসনিক ব্যয় ছিল মাত্র ১৭ কোটি টাকা।

আর বর্তমানে তা বেড়ে বছরে ১৯১ কোটি টাকায় পৌছেছে। মেয়র সম্প্রতি ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের ৫২ জন হোল্ডারের আপিল রিভিউ বোর্ডে নিস্পত্তি হওয়া তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, উল্লেখিত ৫২ জন হোল্ডারের ১৯৮৯-১৯৯০ সনে চূড়ান্ত ভেল্যু ছিল ৭ লক্ষ ২৫ হাজার ৬শত টাকা। ১৯৯৪-১৯৯৫ সনে সংশোধিত ভেল্যু ছিল ২০ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮ শত টাকা। ১৯৯৪-১৯৯৫ সনে চূড়ান্ত ভেল্যু ছিল ১০ লক্ষ ২ হাজার ৭২০ টাকা। সেখানে ৫১% ভেল্যু হ্রাস করা হয়েছিল। ১৯৯৪-১৯৯৫ সনে চূড়ান্ত ভেল্যু ছিল ১০ লক্ষ ২ হাজার ৭২০ টাকা। ২০১১-২০১২ সনে সংশোধিত ভেল্যু ছিল ৩০ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩শত টাকা এবং ২০১১-২০১২ সনে চূড়ান্ত ভেল্যু ছিল ১৭ লক্ষ ৮২ হাজার ২শত টাকা। সেখানে ৪১ % ভেল্যু হ্রাস পায়। ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে চূড়ান্ত ভেল্যু ছিল ১৭ লক্ষ ৮২ হাজার ২শত টাকা। ২০১৭-২০১৮ সনে সংশোধিত ভেল্যু ছিল ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ১২ হাজার ৫শত টাকা। ২০১৭-২০১৮ সনে চূড়ান্ত ভেল্যু নির্ধারিত হয়েছে ৪৫ লক্ষ ১৯ হাজার ১শত টাকা। এতে ৭৫% ভেল্যু হ্রাস করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান আপিল রিভিউ বোর্ড ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের ৫২ জন হোল্ডারে মধ্যে ১৬ জন হোল্ডারের পৌরকর পূর্বের ন্যায় বহাল রেখেছে। এ ছাড়াও ১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬ জন হোল্ডারের নামমাত্র ট্যাক্স ৫১ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহবান জানান।  সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্যানেল মেয়র ও ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। মঞ্চে কাউন্সিলর হাবিবুল হক, সাবেক কাউন্সিলর আবু জাফর চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক, ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব, ২১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাজস্ব সার্কেল ৩ এর কর কর্মকর্তা ও উপ কর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম- ৯ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আপিল-আপত্তি দাখিলের সময়

১১ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি.পর্যন্ত বর্ধিত হলো

কর বিধি ১৯৮৬ এর ১৯, ২০ ও ২১ বিধির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আপিল-আপত্তি দাখিলের সময় বর্ধিত করে ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি. পর্যন্ত করা হয়েছে। সংর্শ্লিষ্টদের এ বিষয়ে আপিল-আপত্তি দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

 

চট্টগ্রাম- ৯ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চবার্ষিকী কর পুনঃমূল্যায়ন বিষয়ে আপিলকারীদের

রিভিউ বোর্ডের শুনানীর  দশম দিনে ২১৯ জন হোল্ডারের আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে

ভেল্যু কমল ৭০.৮৪%

৯ নভেম্বর  ২০১৭ খ্রি. সার্কেল -৫ এর আপিলকারীদের আপিল নিষ্পত্তির জন্য সকাল ১১ টা থেকে রিভিউ বোর্ড  এর কার্যক্রম শুরু হয়। আজ ২১৯টি আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়। শুনানীর দশম দিনে আপিল রিভিউ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য ২২৫ জন হোল্ডার এর নিকট পত্র প্রেরণ করা হলে তন্মোধ্যে ২১৯ জন হোল্ডার আপীল রিভিউ বোর্ডে শুনানীর জন্য উপস্থিত হন। আপীল রিভিউ বোর্ড হোল্ডারদের আপত্তি আমলে নিয়ে নির্ধারিত ভেল্যু থেকে গড়ে ৭০.৮৪% ছাড় দিয়েছে। এছাড়াও ২৩ জন গরীব হোল্ডারকে বছরে নামমাত্র ৫১ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারন করা হয়েছে এবং ১৮ জন হোল্ডারের পৌরকর পূর্বের হার বহাল রাখা হয়েছে। ১ জন মুক্তিযোদ্ধা সহ ২ জনের পৌরকর মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। আপিল রিভিউ বোর্ড ২১৯ জন হোল্ডারের অ্যাসেসমেন্ট ভেল্যু ৩ কোটি ৯২ লক্ষ ৫১ হাজার ২ শত টাকা থেকে কমিয়ে ১ কোটি ১৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ২ শত ২০ টাকা ভেল্যু ধার্য্য করেছে। ফলে এ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু থেকে ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৫ হাজার ৯ শত ৮০ টাকা ভেল্যু কমল। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরে আপিল রিভিউ বোর্ডে শুনানীতে মেয়রের পক্ষে সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিলর হাবিবুল হক। এতে আপিল রিভিউ বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী এম.আবদুর রশিদ, এডভোকেট চন্দন বিশ্বাস, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, কর কর্মকর্তা ও উপ কর কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, আপিল-আপত্তি দাখিলের মেয়াদ ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

 

চট্টগ্রাম- ৯ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে

জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Mr. Hiroyasu Izumi সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে তাঁর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Mr. Hiroyasu Izumi (হিরোইয়াসু ইজুমি) ০৮ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.বৃহষ্পতিবার, সকালে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এর দপ্তরে জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিত হলে মেয়র তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট উপহার প্রদান করেন। সৌজন্য বৈঠকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বাংলাদেশের সাথে জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্কের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাপান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশের বাণিজ্য খাত ও নানামুখী উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ বিশ্ব দরবারে দেশের অবস্থানকে আরো সমুন্নত করবে। সাক্ষাত আলোচনায় রাষ্ট্রদূত ওয়ার সিমেট্রিতে চিরশায়িত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মদানকারী জাপানি সৈন্যদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। সিটি মেয়রও শহীদদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। মেয়র তার দায়িত্ব গ্রহন থেকে এ সময় পর্যন্ত গৃহিত উন্নয়ন কর্মকান্ড বিস্তারিত তথ্যচিত্র তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকা হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশংকা রয়েছে।নগরীতে জলাবদ্ধতার সমস্যা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যা, এল ই ডি সংযোজন, বিউটিফিকেশন, এল ই ডি বিলবোর্ড ব্যবস্থাপনা, পর্যটন শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প, পাওয়ার প্ল্যান্ট সহ নানা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, জাপান জাইকার মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে অবকাঠামো ও যোগাযোগখাতে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মেয়র বলেন, দেশী ও বিদেশী সাহায্য সংস্থার সহযোগিতা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়ের উৎস থেকে  বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে দৃষ্টি নন্দন, নিরাপদ, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার প্রচেষ্টা চলছে। তিনি সরকারের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার নানাদিক তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম অর্থনীতির হৃদপিন্ড ও বানিজ্যিক খাত। চট্টগ্রাম বিনিয়োগের উত্তম স্থান। এছাড়াও সরকার মিরশরাই এবং আনোয়ারা সহ নানা জায়গায় অর্থনেতিক জোন গড়ে তুলেছে। এসকল জোনে জাপান বিনিয়োগে এগিয়ে আসলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। মেয়র চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চান। সৌজন্য সাক্ষাতে জাপানী  রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জাপান সরকারের ৬শ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার বিষয়টি আলোচনা করেন। এছাড়াও  ঢাকা,চট্টগ্রাম, কক্সবাজার মাতারবাড়ি পর্যন্ত স্থল ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে জাপান আগ্রহী।   রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে জাপানি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপান বাংলাদেশের পাশে আছে আগামীতেও থাকবে। সৌজন্য সাক্ষাত বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম,জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম এবং চট্টগ্রামস্থ জাপানের অনাররি কনসল নুরুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম- ৯ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.

নগরীর সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর মাঝে

স্বাস্থ্যসেবা কার্ড বিতরণ করলো চসিক

নগরীর সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড বিতরণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ৯ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. সকালে, কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে  সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের হাতে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড বিতরণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ স্বাস্থ্যসেবা কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষরা বিনামূল্যে তাদের চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারবেন। এর আগে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে ব্র্যাক-কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কর্পোরেশনের পক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও ব্র্যাক-কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর পক্ষে কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কান্ট্রি ম্যানেজার এ কে এম মুসা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক-কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর সহায়তায় নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত ৯ হাজার পরিবারের জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে এই স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা কার্ড বিতরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক। অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা  ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কান্ট্রি ম্যানেজার এ কে এম মুসা। স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার ইমরানুল হক। অনুষ্ঠানে ২৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তার অঙ্গীকার অনুযায়ী ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে চসিক পরিচালিত জেনারেল হাসপাতাল আধুনিকায়নকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজলব্য করার জন্য পূর্বের ধার্য্যকৃত ফি ৩০ টাকা থেকে ১০ টাকায় নিয়ে আসা হয়। নগরীর প্রতিটি মানুষ যাতে সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ পায় সে দৃষ্টিকোণ থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। মেয়র বলেন, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে মানুষ অন্যের সাহায্য সহযোগীতা কামনা করে। কিন্তু নিজের অর্থ থাকলে যেভাবে স্বাস্থ্যসেবা নেয়া যায় অন্যের টাকার উপর নির্ভর করে সেভাবে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় না।

সে কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রতিমাসে লক্ষাধিক নগরবাসীকে নামমাত্র মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা  দিয়ে থাকে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটির ৬০ লক্ষ নাগরিকের মধ্যে প্রায় ১০-১২ লক্ষ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। এর বড় একটি অংশ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত জেনারেল হাসপাতাল, মাতৃসদন হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎসালয় ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে চিকিৎসেবা পাচ্ছে। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবার সাধারণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫শ ও কোন পরিবারের মাতৃত্বজনিত সেবার প্রয়োজন হলে তাঁর জন্য বছরে নরমাল ডেলিভারিসহ ৩ হাজার টাকার মধ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কার্ডের মাধ্যমে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ডিসপেনসারী এবং ব্র্যাক কর্তৃক নির্ধারিত ক্লিনিক ও হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা যাবে। এ ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের প্রয়োজন হলে প্রসূতি মা বছরে ৩ হাজার টাকার সাথে অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা সিজারিয়ান সেবা ও কার্ডধারী বা পরিবারের যেকোন সদস্য দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত হলে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্র্যাক ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড কাজ করতে এগিয়ে আসায় ধন্যবাদ জানান।

 

চট্টগ্রাম- ৯ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.

সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের আওতায় কাইজেন সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের আওতায় জাইকার আয়োজিত কাইজেন সংক্রান্ত রিফ্রেসার কর্মশালা ৯ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. বৃহস্পতিবার, সকাল থেকে নগরভবনে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আবুল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, কর্পোরেশনের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানসহ ৩৩ জন কর্মকর্তা অংশ গ্রহণ করেন। কর্মশালায় ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর এস  এ এম মাহফুজুল হোসেন প্রজেক্টের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। কাইজেন সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিষ্ট সাইদুর রহমান ও সৈয়দা নোবেরা ইয়াছমিন। কর্মশালায় ক্ষুদ্র উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন সহায়িকা, কাইজেনের প্রয়োজনীয়তা ও কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কাইজেনের গুরুত্ব ও এর পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানের ক্রমাগত কর্মদক্ষতা উন্নয়নে সকলকে সচেষ্ট হওয়ার পরামর্শ দেন।

 

চট্টগ্রাম- ৯ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ৬৫টি মার্কেটের সমিতির সদস্য এবং

দোকান মালিকদের সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ৬৫টি মার্কেটের সমিতির সদস্য এবং দোকান মালিকদের সাথে ৯ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. বৃহস্পতিবার, বিকেলে নগরভবন কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে মতবনিমিয় করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। সভায় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারী এস্টেট অফিসার এখলাছ উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত মার্কেট সমূহের পুরাতন ও জড়াজীর্ণ দোকান-পাটগুলোকে সংস্কার করে আধুনিক মার্কেটে উন্নিত করা হবে। বর্তমান দোকানদারদের নতুন মার্কেটে পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, কর্পোরেশনের আয়ের উৎস এ সকল দোকান প্রতিষ্ঠান। মালিকদের নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের উপর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভাল-মন্দ নির্ভর করে। যেহেতু দোকান মালিকগণ সিটি কর্পোরেশনের পরিবারের একটি অংশ, তারা সিটি কর্পোরেশনের সেবার ক্ষেত্রে সহযোগী হলে সেবার মান ও গুন বৃদ্ধি করা সহজতর হয়। মেয়র আশা করেন, সকল দোকান মালিকগণ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সেবাধর্মী কাজে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করবেন। তিনি প্রসঙ্গক্রমে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্বাবলম্বী হলে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে নতুন নতুন মার্কেট গড়ে তোলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে। তিনি সকল দোকান মালিকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ২০১৮ সনের জানুয়ারি থেকে সহনীয় পর্যায়ে দোকান ভাড়া বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেন। দোকান মালিকগণ তাদেরকে ডেকে সভার মাধ্যমে মতামতের ভিত্তিতে দোকান ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করায় মেয়রকে সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, এ ভাবে একে অপরের সহযোগিতা গ্রহণ করে অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব। দোকান মালিকবৃন্দ মেয়রের সকল কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

সংবাদদাতা

মো. আবদুর রহিম

জনসংযোগ কর্মকর্তা