Press Release 10-07-2018

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

চট্টগ্রাম।

 

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

চসিক এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত

চট্টগ্রাম- ১০ জুলাই ২০১৮

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট(যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস এর নেতৃত্বে আজ মঙ্গল দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানকালে কোতোয়ালী থানাধীন চেরাগী পাহাড় মোড় নুর আহমদ রোডের লাভ লেইন থেকে কাজীর দেউড়ী মোড় পর্যন্ত রাস্তা ফুটপাতের উপর অবৈধভাবে বসে জন দূর্ভোগ সৃষ্টির কারনে প্রায় ৫০ টির মত ভাসমান দোকান পাট উচ্ছেদ করে রাস্তা ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়।   

অভিযানকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারি চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা করেন। 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের

হাজার শত ২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা

চট্টগ্রাম-১০ জুলাই ২০১৮

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য হাজার শত ২৫ কোটি ৪২ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। এই প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো খাতে কর বৃদ্ধি করা হয়নি। বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবামূলক প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মিলনায়তনে মেয়র নাছির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাজেট ঘোষণা করেন। সভায় একই সাথে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ৮৮৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদন দেয়া হয়। বাজেটে আয় খাতে নিজস্ব উৎস থেকে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি  ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা, উন্নয়ন অনুদান ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ব্যয় খাতে পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৩৪৩ কোটি ৯৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, উন্নয়ন খাতে রাজস্ব তহবিল অন্যান্য খাতে ৫৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, এডিপি অন্যান্য খাত থেকে ৩৯৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, স্থায়ী সম্পদ ১৫ কোটি ৬৫ লাখ  টাকা, বকেয়া দেনা ৪০কোটি ৩২ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ১৯৮৮ সালের সরকার অনুমোদিত একটি জনবল কাঠামো রয়েছে। উক্ত জনবল কাঠামোতে বিভিন্ন পদের সংখ্যা ৩১৮০টি। ১৯৮৮ সালের জনবল কাঠামোতে অনুমোদিত জনবল দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে বসবাসকারী ৬০ (ষাট) লক্ষ লোকের যথাযথ নাগরিকসেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেনা বিধায় বিভিন্ন সময়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করে কর্পোরেশনের বিশাল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তবে আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে গত ১৮/০৩/২০১৮ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অনুকূলে ১০৪৬টি পদ  স্কেল ভেটিং-সহ অনুমোদন দেয়া হয়েছে যা বর্তমানে গেজেটভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মপরিধি বর্তমানে বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান ভবিষ্যতের চাহিদার আলোকে ৯৬০৪ জনের একটি পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। নাগরিকদের সেবা তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে ইতোমধ্যে সিটিজেন চার্টার প্রস্তুতপূর্বক কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে ১টি বিশ^বিদ্যালয়, ২টি কলেজে অনার্স কোর্স-সহ মোট ৮টি ডিগ্রি কলেজ, ১৩টি উচ্চ-মাধ্যমিক কলেজ, ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি কিন্ডারগার্টেন, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, ৪টি কম্পিউটার কলেজ (ক্যাম্পাস), ১টি থিয়েটার ইনস্টিটিউট, ১টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ১টি কারিগরি ইনস্টিটিউট, ৩৫০টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ৮টি জামে মসজিদ, ২টি ইবাদতখানা, ৪টি সংস্কৃত টোলসহ কতিপয় বিশেষ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।

মেয়র আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আবশ্যিক সেবা কার্যক্রম হচ্ছে () বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, () রাস্তাঘাট সংস্কার মেরামতের মাধ্যমে চলাচল উপযোগি রাখা এবং () সড়ক বাতির মাধ্যমে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর বাইরে শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা খাতে প্রতি বছর ৪৩ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর ১৩ কোটি টাকা-সহ -দুটি খাতে সর্বমোট ৫৬ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করে-যার নজির বাংলাদেশে আর কোন সিটি কর্পোরেশনের নেই।

নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪১টি ওয়ার্ডকে ভাগে অর্থাৎ উত্তর দক্ষিণ জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। ছাড়াও আবর্জনা অপসারণকাজে পূর্বে নিয়োজিত পে-লোডার, ডাম্প ট্রাক, কন্টেইনার মুভার ইত্যাদি গাড়ি বহরে আরো নতুনভাবে গাড়ি সংযোজন করা হয়েছে। বর্র্তমানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ অপসারণ কাজ চলছে। ছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে সকল ওয়ার্ড হতে ৫০০ জন নর্দমা পরিষ্কার/শ্রমিক উঠিয়ে এনে নালা-নর্দমা পরিষ্কারের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হয়েছে। প্রতিদিন ৫টি করে ওয়ার্ডে / দিন করে প্রোগ্রাম চলছে। স্বল্প ব্যয়ে নগরবাসীর নিজস্ব দালান/বাণিজ্যিক ভবন/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেপ্টিক ট্যাঙ্ক-এর ময়লা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে একটি বিদেশি এন.জি.. সংস্থা কর্তৃক ২টি আধুনিক মানব-বর্জ্যবাহী গাড়ি সিটি কর্পোরেশনকে বিনামূল্যে সরবরাহ করায় উক্ত গাড়ি ২টি পরিচালনার জন্য একটি দক্ষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানচট্টগ্রাম সেবা সংস্থা (ইউনিট-)কে MOU -এর মাধ্যমে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। 

মেয়র বলেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত চট্টগ্রাম নগরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং যথাযথ উন্নয়নের মাধ্যমে বাসযোগ্য নান্দনিক নগরে পরিণত করার জন্য  রাজস্ব বিভাগে ব্যাপক যুগোপযোগী সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পৌরকর অর্থাৎ (হোল্ডিং, কনজার্ভেন্সি লাইটিং ট্যাক্স) সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি নিয়মিত হালনাগাদকরণসহ সম্মানিত হোল্ডিং মালিকগণের কর প্রদানে সহজলভ্য সেবা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ এস্টেট শাখার আওতাধীন হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি, মার্কেট-এর দোকানভাড়া, উন্নয়ন চার্জ, ইজারাকৃত সম্পত্তির যাবতীয় কর/ফি ভাড়া ইত্যাদি এই ২০১৮-১৯ আর্থিক সনেঅনলাইন ব্যাংকিংএর মাধ্যমে আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আপনারা ঘরে বসে সকল তথ্য-উপাত্ত পেয়ে যাবেন যাতে হোল্ডিং কর রেট এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি অন্যান্য করাদি পরিশোধ সহজ থেকে সহজতর হয়। শুধুমাত্র স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার মাধ্যমে কর আদায় করা যার মূল উদ্দেশ্য। নিয়মিত কর পরিশোধ করে আপনার শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর, জলজটমুক্ত বাসযোগ্য নগর গড়তে নগরবাসীর সহায়তা কামনা করছি।

সম্মানিত করদাতাদের সুবিধার্থে বকেয়া কর পরিশোধের লক্ষ্যে সারচার্জ মওকুফের সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত পত্র ব্যক্তিগত যোগাযোগ করে সরকারি দপ্তর/অধিদপ্তর এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাসমূহের পাওনা পৌরকর আদায়ের লক্ষ্যে ডি.. লেটার প্রেরণ করা হয়েছে। -বিষয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণ তাঁদের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর অনুকলে পৌরকর পরিশোধের লক্ষে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদানের প্রতিশ্রæতি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের জন্য আমরা তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। -ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং ব্যক্তিমালিকানার সম্মানিত হোল্ডিং মালিকগণের সাথে বকেয়া পৌরকর পরিশোধের বিষয়ে বিশেষ সমš^ সভা করে অনাদায়ী পৌরকর আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এতে সরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানার সম্মানিত করদাতাগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে সাড়া দিয়ে কর পরিশোধ করছেন।  

সিটি মেয়র বলেন, সকল ব্যবসায়ীগণের ট্রেড লাইসেন্স ইসু/নবায়ন করতে সব সমস্যা সমাধান করে দ্রুত লাইসেন্স প্রদান করার লক্ষ্যে তাঁদের ব্যাবসায়িক সমিতির কার্যালয়ে স্পট বা তাৎক্ষণিক ট্রেড লাইসেন্স ইসু/নবায়ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে সম্মানিত ব্যবসায়ীগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করছেন এবং সময়মত নবায়ন করছেন, যাতে ট্রেড লাইসেন্স ইসু সংখ্যা এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থ বৎসরের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর আওতাধীন সকল ট্রেড লাইসেন্স অটোমেশনের আওতায় আসবে। 

সঠিক উন্নয়ন অবকাঠামো, সুষ্ঠু তত্ত¡াবধান এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ সমাপ্তির মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ত্ত জনকল্যাণকর যেকোনো উদ্যোগে শামিল হতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সদা প্রস্তুত আছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন- অ্যাসফল্ট তথা পিচঢালা সড়কের মোট সংখ্যা ১১৯৭টি। মোট দৈর্ঘ্য ৬৯২ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .২০ মি.; কংক্রিট সড়কের মোট সংখ্যা ১১৭৭টি, মোট দৈর্ঘ্য ২৯৩ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .৫৫ মি.; ব্রিক সলিং সড়কের মোট সংখ্যা ২০৩টি, মোট দৈর্ঘ্য ৪২ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .৫০ মি.; কাঁচা সড়কের মোট সংখ্যা ২৩২টি, মোট দৈর্ঘ্য ৩৯ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .৮০ মি. ; খালের মোট সংখ্যা ৫৭টি, মোট দৈর্ঘ্য ১৬১ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .২৮ মি.;  পাকা নর্দমার মোট দৈর্ঘ্য ৭৩৮ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .১০ মি.; কাঁচা নর্দমার মোট দৈর্ঘ্য ২৭ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .৪০ মি.; ফুটপাথের মোট সংখ্যা ১৩৮টি, মোট দৈর্ঘ্য ১৬৫ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .৮০ মি. ; প্রতিরোধ দেওয়াল মোট দৈর্ঘ্য ৯৪ কি.মি. এবং গড় প্রস্থ .২৫ মি. ; মোট ব্রিজ ১৯৫টি; গভীর নলকূপ ৪২৩টি; কালভার্ট ১০৩২টি।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরের নিজস্ব তহবিল হতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৩০ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়। ১২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০২ কি.মি. নর্দমা হতে মাটি উত্তোলন অপসারণ; ৬০ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৪৫ কি.মি. রাস্তা নির্মাণ; ১২ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৫ কি.মি. ফুটপাথ নির্মাণ; ২০ কোটি লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২২ কি.মি. প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণ; ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ; কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫টি ভবন নির্মাণ/সংস্কার; কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৮টি নলকূপ স্থাপন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। 

মেয়র বলেন, এডিপি খাতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শত ৯০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়, যার মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহ পুনর্বাসন/উন্নয়ন একটি অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ১২২ কি. মি. রাস্তার উন্নয়ন, একটি নতুন অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট স্থাপন এবং যানবাহন ইকুইপমেন্ট ক্রয় করা হয়। বন্যা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৬৫ কি. মি. রাস্তা, ২০ কি. মি. রিটেইনিং ওয়াল, ১৫ কি. মি. ড্রেন, ৮টি ব্রিজ ২টি কালভার্ট নির্মাণকাজ চলমান আছ্।ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৩০ কি. মি. রাস্তা, .০৫ কি. মি. ড্রেন, ২টি কালভার্ট একটি ফুটওভার ব্রিজ এবং ৩০.৫০ মি. দৈর্ঘের একটি পি.সি. গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ বাস্তবায়নাধীন। ‘‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সড়ক আলোকায়ন’’ শীর্ষক প্রকল্পটির উপ-প্রকল্পসমূহের কাজ বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে চলমান রয়েছে। 

জাইকা সি.জি.পি. প্রকল্পের আওতায় ব্যাচ - প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাস্তা, ব্রিজ রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাচ - প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা, নর্দমা, ব্রিজ, রিটেইনিং ওয়াল, স্কুল ভবন নির্মাণকাজ চলমান আছে, যার মধ্যে নগরীর .কে. খান মোড়ে প্রায় ২১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। ছাড়াও () পাথরঘাটা রবীন্দ্র-নজরুল সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোনসেল্টার, () পূর্ব মাদারবাড়ি সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোনসেল্টার, () পশ্চিম মাদারবাড়ি সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোনসেল্টার, () পাঠাটুলী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোনসেল্টার, () হালিশহর আলহাজ¦ মহব্বত আলী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোনসেল্টার, () দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর আহম্মদ মিয়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কাম সাইক্লোনসেল্টার এবং () পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ কাম সাইক্লোনসেল্টার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, অত্র কর্পোরেশনের সম্মানিত নাগরিকগণের দোরগোড়ায় আলোসেবা পৌঁছনোর জন্য ,৫৫৬টি সুইচিং পয়েন্টের মাধ্যমে ৫১ (একান্ন) হাজার এনার্জি, টিউব, হাই-প্রেসার সোডিয়াম, LED   অন্যান্য বাতি দ্বারা সড়ক আলোকায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সড়কে পর্যাপ্ত আলোকায়ন এবং নগরবাসীর রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চলাচলের সুবিধার্থে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রধান সড়কে কোটি ৭৪ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকায় প্রায় ৭০৫টি LED বাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং আরো কোটি ৩৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকায় ৩৮১টি LED   বাতি স্থাপনের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৭ কোটি লক্ষ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সোলার/নন-সোলার LED   স্ট্রিট-লাইট প্রোগ্রাম ইন সিটি কর্পোরেশন (এস.এস.এল.পি.সি.সি.)-এর আওতায় সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কি.মি. সড়কে ১০৩টি সোলার প্যানেলযুক্ত LED   লাইট এবং ৫৬ কি.মি. সড়কে ৩০১৭টি নন-সোলার LED   এনার্জি সেভিং লাইট স্থাপনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।  ইতোমধ্যে প্রায় ১৮০০টি নন-সোলার LED   এনার্জি সেভিং লাইট স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে স্থিত বাতিসমূহ শতভাগ কার্যকর রাখার পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ওয়ার্ডে আগামী (দুই) বছরের মধ্যে প্রায় ৮০,০০০ LED   লাইট স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে ৪৫৮ কোটি টাকার ডি.পি.পি. প্রেরণ করা হয়েছে। ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জনসাধারণের যানবাহনের চলাচল সুবিধার্থে পর্যাপ্ত আলোকায়নের জন্য মোড়ে মোড়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উন্নতমানের LED   লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নাছির উদ্দীন বলেন, সাগরিকা ইয়ার্ডে জার্মানির প্রযুক্তিতে নির্মিত ঘণ্টায় শত টন অ্যাসফল্ট মিক্স প্রস্তুত ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট, ৫০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ওয়েব্রিজ, সিসি ক্যামেরা, রাস্তা উন্নয়ন, নালা নির্মাণ, স্টক ইয়ার্ড নির্মাণ, প্ল্যান্ট অফিস সাবস্টেশন নির্মাণ, ডাম্প ট্রাক, পে-লোডার, টায়ার রোলার, ভাইব্রেটর রোলার, পেভার মেশিন, টেলিস্কোপ ক্রেন, হুইল ডোজার, প্রাইম মুভার, জেনারেটর, ওয়াইফাই সংযোজনসহ শত ৯৯ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকার উন্নয়নকাজ সমাপ্ত হয়েছে।

 আগ্রাবাদস্থ সিঙ্গাপুর-ব্যাঙ্কক মার্কেটটি ১১-তলায় উন্নীত করা হবে। এখানে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে -তলা থেকে -তলা পর্যন্ত সেন্ট্রাল এসি, -তলায় ফুডকোর্ট, সিনেপ্লেক্স, কিড্স জোন, -তলা থেকে -তলা পর্যন্ত উন্নত মানের টাইল্স স্থাপন, ৪টি লিফ্ট, ২টি ক্যাপসুল লিফ্টসহ ৬টি উন্নত মানের লিফ্ট, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটর স্থাপন, -তলা থেকে -তলা আধুনিক মানসম্মত ইন্টেরিয়র এক্্রটেরিয়র, সিসি টিভি, ফায়ার ফাইটিং, পি.. সিস্টেম, ফ্রি ওয়াইফাই জোন এবং মার্কেট এরিয়ায় এস্কেলেটর পুনঃস্থাপন কাজ করা হবে। -ছাড়া বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির অর্থায়নে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি -১১ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে আধুনিক সুযোগসুবিধা সংবলিত আই.টি. ভিলেজে রূপান্তরিত করা হবে। সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক  আগামী ১৮ জুলাই তারিখে স্বাক্ষরিত হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জাইকার অর্থায়নে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পোর্ট কানেকটিং রোড এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডকে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান। বন্দরের  দৈনিক / হাজার অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং প্রাইম মুভার গাড়ি প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ গাড়ি চলার মত আয়তন বা ধারণক্ষমতা সড়কের নেই। উভয় পাশের্^ পরিকল্পিত ফুটপাথ আর.সি.সি. ড্রেনসহ ছয় লেনে উন্নীত হলে সড়কে সৃষ্ট যানজট সমস্যা নিরসন হবে এবং পথচারীগণ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন সময়ে নগরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

জলবায়ুর প্রভাবে এদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস, অতিবৃষ্টি ভূমি ধসসহ নানা দুর্যোগ, প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়। -খাতে চলতি বাজেটে কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

লক্ষ্যে নগরীর পাহাড়সমূহের ক্ষয়রোধকল্পে বিন্না ঘাস পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস বাটালি হিল মিঠা পাহাড়ের পাদদেশে ভেটিভার গ্রাস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারবিন্না ঘাসপ্রকল্প উদ্বোধন করা হয়।

মেয়র বলেন জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত বছরে নগরীর প্রতিটি সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হাজার শত কোটি টাকার ১টি মেগা প্রকল্প সি.ডি..-কে অনুমোদন দিয়েছেন। যার বাস্তবায়ন দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসণে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের পরিবেশ বদলে যাবে, দৃষ্টিনন্দন হবে আমাদের প্রিয় নগর চট্টগ্রাম। নগরের লালদিঘির দক্ষিণ পাড়ে সিটি গভারনেন্স প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে ১২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে -তলা বিশিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সাইক্লোন সেল্টার পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণাধীন। 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যার মধ্যে এয়ারপোর্ট রোড, জামাল খান রোড, টাইগারপাস রোড, লালখান বাজার, কাজিরদেউড়ি আউটার স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্য বর্ধন করা হচ্ছে। ক্লিন গ্রিন সিটি নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা মনে রেখে নগরকে নান্দনিক রূপসি সাজে সাজানো হচ্ছে। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান-বন্দর সড়কে শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য কর্তৃক নৌকার উপর জাতির জনকের দৃষ্টিনন্দন মুরাল তৈরি করা হয়েছে।

বৃক্ষ মানুষের জীবন বাঁচায় এবং পরিবেশ সুরক্ষা করে। তিলোত্তমা চট্টগ্রাম-এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ‘‘ছাদ-বাগান’’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।  এই অর্থ বছরে উক্ত খাতে কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্লিন গ্রিন সিটিতে পরিণত করার প্রয়াসে নগরীর রাস্তায় আইল্যান্ড, গোলচত্বর, ফুটপাথ সড়কে এলইডি আলোকায়নে সৌন্দর্যবর্ধন করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্থানে যাত্রী ছাউনি আধুনিক পরিবেশে স্থাপন করে জনগণের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। -সকল স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে পণ্যের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক সরকারি নির্দেশনাসমূহ প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ওয়াটার এইড কিমবার্লির অর্থায়নে নগরির কে.সি. দে রোডস্থ টিএণ্ডটি- দেয়ালের বাহিরে লালদিঘির উত্তর পাশের্^ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জায়গায় আধুনিক ২টি টয়লেট, গোসল, লকার রুম, সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীদের সুবিধাসহ টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। আরো উল্লেখ্য যে, জায়গাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে আরো ৭টি আধুনিক টয়লেট নির্মাণ-এর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফিউশন ডিজাইন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি.-এর অর্থায়নে এম. . আজিজ আউটার স্টেডিয়ামের পূর্ব এবং উত্তর পাশে ফুটপাথসহ বাগান নির্মাণ করে বিউটিফিকেশন করা হচ্ছে। উল্লেখিত এলাকায় নারী পুরুষের জন্য আলাদা দু-টি আধুনিক গণ-শৌচাগার নির্মাণসহ দৃষ্টিনন্দন বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে ব্যয় নির্বাহ করবে।

নগরীর বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন সড়ক, জিপিও এবং শাহ আমানত শপিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত অঞ্চলের প্রায় দশমিক কি.মি. দীর্ঘ রাস্তার মিড আইল্যান্ড এবং ফুটপাথের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, স্ত্রিপ্ট এবং অডিওস ইঙ্ক-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যার মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপার্শি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনি, মানসম্পন্ন আধুনিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন, বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজের সংস্কার সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে তা ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হবে।

এছাড়াও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে দুটি প্রকল্প  একনেকে অনুমোদন এর অপক্ষোয় রয়েছে প্রকল্প দুটি হলো হাজার শত ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প শত ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন পরিচ্ছন্নকর্মীনিবাস শীর্ষক প্রকল্প।

এসময় মঞ্চে সিটি কর্পোরেশনের অর্থ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর মো. শফিউল আলম, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মো. আবুল হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা . মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান প্রকেশৗলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী সহ কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলরগণ উপস্থিত ছিলেন। বাজেট ঘোষনার পূর্বে সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রস্তাবিত বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়।

 

জীবন বীমার গ্রাহকের মরনোত্তর দাবীর

চেক হস্তান্তর করলেন মেয়র

চট্টগ্রাম-১০ জুলাই ২০১৮

জীবন বীমা কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জীবন বীমার গ্রাহক মরহুম মোহাম্মদ হাসানের মরনোত্তর দাবীর লক্ষ ২৮ হাজার টাকার চেক মরহুমের স্ত্রী   ইয়াছমিন আরা বেগমের হাতে তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র .. নাছির উদ্দীন।  আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর দপ্তরে জীবন বীমা কর্পোরেশন-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম মেয়রের নিকট উক্ত চেক হস্তান্তর করলে  মেয়র তা ইয়াছমিন আরা বেগমের নিকট অর্পণ করেন। মরহুমের স্ত্রী দাবীর চেক পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জীবন বীমা কর্পোরেশন-এর জেনারেল ম্যানেজার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান

জেনারেল ম্যানেজার জীবন বীমা কর্পোরেশন-এর পক্ষে সহযোগীতা চাইলে সিটি মেয়র তাঁর দপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের জীবন বীমা কর্পোরেশন এর পলিসি গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন। এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মো. আবুল হোসেন সহ জীবন বীমা কর্পোরেশনের ডেপুটি ম্যানেজার নাজিমুল হক, ম্যানেজার কাজী মাহফুজ উল্লাহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারী

ভবনের আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন করলেন মেয়র

চট্টগ্রাম-১০ জুলাই ২০১৮

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারী ভবন -১০ তলা পেশাগত কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন আজ সকালে ফিতা কেটে ভবনের আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন করেন। গণপূর্ত বিভাগের সার্বিক তত্বাবধানে ভবনটি নির্মিত হয়। এর জন্য ব্যয় হয় ১৫ কোটি টাকা। ভবনের মোট আয়তন ৮৩ হাজার ১০৫ বর্গফুট। প্রতি তলার আয়তন হাজার শ১৫ বর্গফুট। ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় গাইনি এন্ড অবস ওয়ার্ড,৭ম তলায় ডেন্টাল ওয়ার্ড এবং স্টুডেন্ট সিক কেবিন,৮ম তলায় কার্ডিয়াক সার্জারী এবং ভাসকুলার সার্জারী ওয়ার্ড,৯ম ১০ম তলায় শিশু সার্জারী ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।  

উপলক্ষে আয়োজিত কার্ডিয়াক ভবনে এক সমাবেশে সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, পেশাগত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে চিকিৎসকদেরকে আরো দায়িত্বশীল মানবিক হয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। শিশু রাইফার মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসক সাংবাদিকদের মধ্যে যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে তার সুন্দর সমাধান হওয়া বাঞ্চনীয়। স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকের যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনি সমাজ বির্নিমানে  সাংবাদিকদের কার্যকরী ভূমিকা আছে।

প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন চিকিৎসক-সাংবাদিকদের এই মতানৈক্যকে ইস্যু বানিয়ে সুযোগ সন্ধানীরা ভিন্নমুখী ষড়যন্ত্র সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরষ্পর বিরোধী স্ট্যাটাস বা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে যা আমাদের কারো কাম্য নয়। ব্যাপারে তিনি সকলকে দায়িত্বশীল হয়ে দায়িত্ব পালনের  আহবান জানান। তিনি বলেন  বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে দেশের একটি অন্যতম হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বহুমুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় হাসপাতালের সক্ষমতা আগের চেয়ে আেনক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মেডিকেল কলেজে শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চমেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা.সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর,বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান,গণপূর্ত বিভাগীয় নির্বাহি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চমেক উপপরিচালক আকতারুজ্জামান।

 

হালিশহরস্থ ডেন্টাল কলেজ- জন্ডিস আক্রান্ত রোগীদের

অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প পরিদশর্নে মেয়র

চট্টগ্রাম-১০ জুলাই ২০১৮

আজ বিকেলে সিটি মেয়র নাছির উদ্দীন নতুন বাজার ডেন্টাল কলেজ- জন্ডিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্থাপিত অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, আবুল হাশেম, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, এমএসসিআর এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ডা. সৈয়দ ফাহাদ নেছার, ডা. রিয়াজ আহমদ, ইমতিয়াজ উদ্দিন, রাত মনি, রাজনৈতিক মোরশেদুল আলম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে সিটি  মেয়র বলেন, ডায়রিয়ায় আতঙ্কিত ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। এটা একটি পানিবাহিত রোগ। পুকুর, ডোবা, খাল বা অনিরাপদ পানি পান করলে অথবা বাসি বা ময়লামুক্ত খাবার খেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সচেতন থাকলেই এই রোগসমুহ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। প্রসঙ্গে তিনি তাই কারো হঠাৎ জন্ডিস,টাইফয়েড, ডায়রিয়া হলে আতঙ্কিত না হয়ে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে বা স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য নগরবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

তিনি এলাকাবাসীকে ওয়াসার সংগৃহিত পানিতে  বিশুদ্ধকরণ বড়ির ব্যবহার বা খাওয়ার ব্যবহারের পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসারত রোগীদের  খোজ খবর নেন এবং তার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপর মেয়র হালিশহর সবুজবাগ কালী বাড়ী রোড এর চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, আবুল হাশেম, সংরক্ষি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেসমিনা খানম,রাজনৈতিক মোরশেদুল আলম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবাদদাতা

রফিকুল ইসলাম

জনসংযোগ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন