Press Release 11-03-2019

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

চট্টগ্রাম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে তথ্য প্রযুৃক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার

বন্দর শিল্পনগর চট্টগ্রাম আগামীতে

ডিজিটাল বাণিজ্যের কেন্দ্রে থাকবে।

চট্টগ্রাম -১১ মার্চ -২০১৯ ইংরেজী

ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন বাংলাদেশকে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে অংশ নিতে হলে ডিজিটাল প্রযুক্তি তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। ভৌগলিক কারণে  চট্টগ্রাম ভালো অবস্থানে আছে। তাই বন্দর নগর, শিল্প নগর চট্টগ্রাম আগামীতে ডিজিটাল বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি আজ সোমবার সকালে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১২ জেলা) প্রকল্পে জমি দানকারী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে একথা বলেন। নগর ভবনের চসিক সভাকক্ষে মেয়র নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক হাইটেক  পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। বিশ্বে শিল্প, বিদ্যুৎ ইন্টারনেট বিপ্লব ঘটেছে। এক সময় হেনরি কিসিঞ্জার যে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ বলেছিলো, এখন সেই অবস্থানে নেই। আজকের বাংলাদেশ যে রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাতে অচিরেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হবে। এক সময় ডিজিটাল বাংলাদেশের কনসেপ্ট নিয়ে লোকজন হাসাহাসি করতো। কিন্তু আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ, জীবনযাপনের রূপান্তর শিশুরা জানে। চট্টগ্রাম ডিজিটাল যুগে পেছনে পড়ে থাকতে পারে না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কোথায় হাইটেক পার্ক  হবে বুঝতে পারছিলাম না। মেয়র ম্যাজিকের মতো জায়গা দেখালেন। এতে আমি অভিভূত। কোন প্রশ্ন, শর্ত বিধি বিধান ছাড়া একবাক্যে জায়গা দিয়ে দিলেন। তিনি বলেন চট্টগ্রাম  শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত। মিরসরাইয়ে ইকোনোমিক জোন হচ্ছে। আগামী ৫বছরে সব কারখানায় ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। ২০১৯ সালের পর দেশের এমন কোন ইউনিয়ন থাকবেনা যেখানে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবেনা ইন্টারনেট একটি অবকাঠামো।  বন্দরের জাহাজ চলাচল বা চসিকের দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্ভর করবে প্রযুক্তির ওপর। মেয়র দুরদর্শিতার সঙ্গে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে দেখেছেন। চট্টগ্রামের অবস্থান ভিন্ন। সারা বিশ্বের সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকায়ত সমুদ্র বন্দর নাই। চট্টগ্রাম ডিজিটাল ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রে থাকবে। গ্রামকে শহর করব এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা। অর্থাৎ শহরের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সুযোগ সুবিধাগুলো গ্রামেও নিয়ে যাওয়া হবে। মেয়র আমাদের সাথে যে সৌহার্দ্যপূণর্  সম্পর্ক স্থাপন করেছেন,সেজন্য ডিজিটাল চট্টগ্রাম তৈরিতে আমরা তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। সেবা জীবন যাপনে প্রযুক্তির সহযোগিতা কাজে লাগবে। হাইটেক পার্ক ক্ষেত্রে সহায়তা হবে। তিনি বলেন আমাদের বড় সম্পদ মানুষ। বাংলাদেশের ৬৫ ভাগ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ডিজিটাল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা বিশ্ব জয় করতে পারবো।

প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমদ পলক বলেন, বন্দরনগরীকে দু-এক বছরের মধ্যে প্রযুক্তির নগরে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন আজ এক ঐতিহাসকি দিনক্ষণ। বন্দর নগর প্রযুক্তি নগরে পরিণত হবে, শিক্ষিত তরুণ তরুণিদের জ্ঞাণ ভিক্তিক কর্মসংস্থান হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন ব্রিটিশ,পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন গণতন্ত্র পূনরূদ্ধারে চট্টগ্রামের ভূমিকা অপরিসীম। ১০ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। ১০ বছর আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৫৬ লাখ,এখন তা ১০ কোটি। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে হাজার। আরো ২৫ হাজার টি হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠাও থেকে বাদ যাবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন ১০ বছরে আইসিটি শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে। এখন খাতে রপ্তানি আয় বিলিয়ন ডলার। এটি বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। আইসিটি খাতে ১০ হাজার নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।  হোসনে আরা বেগম বলেন আমাদের উদ্যেশ্য এসএসসি এইচএসসি পাশ  শিক্ষিত বেকারদের দক্ষ মানব সম্পদ পরিণত করা। উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। মেয়র অনেক জায়গা দিয়েছেন আরও একটি প্রকল্প নেয়া হবে।

পরে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

 

 সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন: এরপর বিকেলে ফলক উম্মোচনের মাধ্যমে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এর কাজের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার এই সময় উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দীন। মার্কেটটি হবে ১১ তলা। এরমধ্যে তলা পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানপাট থাকবে।  পার্কের জন্য মার্কেটটি -১১তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। এরজন্য ব্যয় হবে ৩০ কোটি টাকা। যার পুরো টাকা দেবে বিশ্ব ব্যাংক। বাস্তবায়নে থাকবে বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। পার্কে সর্বমোট ফ্লোরের আয়তন হবে লক্ষ হাজার বর্গফুট। পার্কের সুযোগ সুবিধার মধ্যে প্রতি ফ্লোরে নুন্যতম ২০ হাজার বর্গফুট আইটি সম্বলিত স্পেস, আরও থাকবে প্রতি ফ্লোরে পুরুষ,মহিলাও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা টয়লেট ব্লক। এছাড়া টপ ফ্লোরে ৫শত জন ধারণ ক্ষমতার ১টি কনভেনশন হল, ৬ষ্ঠ তলায় শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ১টি মসজিদ থাকবে। চলতি বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এই পার্কে প্রায় ২৫শ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে।  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে গত বছর ১৮ জুলাই একটি চুক্তি হয়।চুক্তিমতে প্রথম ৩০ বছর এই পার্ক থেকে ৫০%-৫০% রাজস্ব সিটি কর্পারেশন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ রাজস্ব  ভাগাভাগি করে নিবে। পরবর্তী সময়ে এই চুক্তি নবায়ন হতে পারে। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের মাধ্যমে একদিকে যেমন দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি হবে,তেমনি হাইটেক পার্কে হবে তাদের কর্মসংস্থান। এছাড়া হাই-টেক পার্কে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি তৈরি হবে দেশীয় উদ্যোক্তা।

প্রকল্পের ড্রয়িং ডিজাইনিং এবং কনসালটেন্সি করেন ত্রিমাত্রিক আর্কিটেক্ট এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, সিঙ্গাপুর মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিক মিয়া,সাধারন সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, সহ সভাপতি আলি নেওয়াজ চৌধুরী,মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আহমদ হোসেন. সাবেক সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান চৌধুরী সহ প্রমুখ। পরে মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী সিটি মেয়র কর্পোরেশনের অপর একটি জায়গাও পরিদর্শন করেন।

দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডে চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করলেন মেয়র

৪১টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা থেকে মাটি-আবর্জনা

পরিষ্কার কর্মসুচি চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত

চট্টগ্রাম -১১ মার্চ -২০১৯ ইংরেজী।

আজ সোমবার সকালে দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড-এর নালা-নর্দমা থেকে মাটি উত্তোলন কর্মসুচি শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। মাসব্যাপি কর্মসুচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি  কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব ...নাছির উদ্দীন। বর্ষার আগে জরুরি ভিত্তিতে ৪১টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা থেকে মাটি-আবর্জনা পরিষ্কার করার ্যে এই কর্মসুচি আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জনবল দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ ওয়ার্ডে এই কর্মসুচি পরিচালিত হবে। এতে ২৫০ জন সেবক নিয়োজিত রয়েছে। মাসব্যাপি কর্মসুচির উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাছান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, সংরিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সামসুদ্দোহা   প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী। উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র বলেন এবছরও চট্টগ্রামবাসী  জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে না। এই ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। জরুবী ভিক্তিতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নালা-নর্দমা থেকে মাটি উত্তোলনের কথা উল্লেখ  মেয়র আরো বলেন, কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, ‘তুমি ড্রেন করো তাই আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ড্রেন করছি। আগের যে ড্রেনগুলো ছিল, সেই ড্রেনগুলো অপর্যাপ্ত অপরিপূর্ণ। তাই চসিক নগরীতে পর্যাপ্ত ড্রেন নির্মাণ করছে। নগরবাসীর বাসা-বাড়ী থেকে ড্রেনে পানি আসবে,ড্রেন থেকে খালে। এরপর খাল হয়ে পানি নদীতে যাবে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলে পানি যাবে কোথায়, নগরীতে জলবদ্ধতা সমস্যা থেকেই যাবে। থেকে উত্তোরণের জন্য শহরে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রতিদিন আমি নগরীর কোনো কোনো এলাকায় পরিদর্শন করছি। পরিদর্শনে আমি দেখেছি,নগরের বেশিরভাগ নালা ভরাট হয়ে আছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তপ২০১৭ সালে ২২ আগস্ট এর আগে জোয়ারের পানি ধরে রাখার জন্য আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করে তারা। এখনো পর্যন্ত এগুলো থেকে আশানুরূপ কাজ হয়নি বলে  তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসংগে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে এই সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকের আয়োজন করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।  আজ সোমবার ৫টি ওয়ার্ডের নালা নর্দমা  থেকে ২১৫ টন মাটি উত্তোলন করা হয়। ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে দেওয়ান বাজার থেকে ৩০ টন,আন্দরকিল্লা থেকে ৪৫ টন,জামাল খান থেকে ৩০ টন, দক্ষিণ পতেঙ্গা থেকে ৭৫ টন, উত্তর পতেঙ্গা থেকে ৩৫ টন মাটি উত্তোলন করা হয়। আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত ওয়ার্ডগুলোতে মাটি উত্তোলন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংবাদদাতা

রফিকুল ইসলাম

জনসংযোগ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন