Press Release 20-09-2018

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

চট্টগ্রাম।

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিশেধক টিকাদান শুরু

চট্টগ্রাম- ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম ২০১৮ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ বৃহষ্পতিবার কর্পোরেশনের কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র  আ জ ম নাছির উদ্দীন। স্বাস্থ্যও শিক্ষা ষ্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক এর সভাপতিত্বে এতে অন্যানেরর মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান, কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী। অনুষ্ঠান  সঞ্চালনায় ছিলেন চসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে জলাতঙ্ক রোগের সম্ভাব্য কারণ প্রতিকার সম্পর্কে একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থান করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.কামরুল ইসলাম। এতে কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, হাজী নুরুল হক, গিয়াস উদ্দিন, .এফ কবির মানিক, হাসান মুরাদ বিপ্লবসহ চসিক পরিচালিত মেমন মাতৃসদন জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জোনাল মেডিকেল অফিসার স্বাস্থ্য সহকারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজকের অবহিতকরণ সভার আয়োজন। সাধারণত ৫টি প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়। যে পাঁচটি প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ ছাড়ায় সেগুলো হল কুকুর,বিড়াল,শিয়াল,বেজি বানর। এছাড়াও ২৫ হাজার গবাদি প্রাণী রোগের শিকার হয়ে থোকে। শহরে সচরাচর কুকুরের উৎপাত বেশি এবং কুকুরে আক্রমনে মানুষ আক্রান্ত হয় বেশি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনি বাধার কারণে কুকুর নিধন করা যাচ্ছে  না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসংগে মেয়র বলেন জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েছে। কুকুরের কামড়ের আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ব্যাপক হারে কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিশেধক টিকাদান, কুকুরের পরিকল্পিত সংখ্যা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষে একটি কর্মকৌশল বাস্তবায়ন চলছে। কুকুরকে প্রতিশেধক টিকা প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে এর কামড় বা আচঁড় থেকে রক্ষায় কর্মকৌশলের সফল বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। তিনি এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্ঠির জন্য ক্যাম্পেইন,প্রচার - প্রচারণা,লিপটলেট বিতরণসহ কাউন্সিলরদের সহযোগিতা করার আহবান জানান।

রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.কামরুল ইসলাম এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায় বিশ্বে জলাতঙ্কে প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিটে থেকে জন মানুষ আক্রান্ত হয়। এশিয়ায় কুকুর,বিড়াল,শিয়াল,বেজি বানরের আক্রমন বা রেভিসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫৬ শতাংশ। বাংলাদেশে ২০১০ সালের পূর্বে প্রতিবছর হাজারের অধিক লোক জলাতঙ্কে মারা যেত। এদের শতকরা ৯৫-৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে কুকুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। দেশে কুকুরের সংখ্যা আনুমানিক ১২/১৫ লক্ষ এবং প্রতিবছর থেকে লক্ষ লোক কুকুরে কামড়ের শিকার হয়। এর মধ্যে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার পরিমান বেশি। তারা সাধারণত আঁচড় খেলেও তা বাবা-মাকে বলে না। সাধারণের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষা বা কুকুরের কামড় থেকে রক্ষার জন্য কুকুর নিধন করাই হচ্ছে একমাত্র সমাধানের পথ। অথচ বিভিন্ন জরীপে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন ১টি কুকুর গড়ে কেজি করে ময়লা আবর্জনা খায়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিধন না করে কুকুরকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে আক্রান্ত মানুষকে জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষা করতে হবে। কুকুর নিধন করে এর বংশগতি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হলেও জলাতঙ্ক রোগ  নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্যে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে রোগে নির্মূলে রাউন্ড টিকা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে ইতিমধ্যে লক্ষ হাজার কুকুরকে টিকা দেয়া হয়েছে। যে সমস্ত কুকুরকে টিকা দেয়া হয়েছে সে কুকুরগুলোর  মাধ্যমে কোন মানুষ আক্রান্ত হলে তাদের জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

ডা.কামরুল ইসলাম বলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় এবং প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৪১ ওয়ার্ডে দুভাগে ভাগ করে কুকুরকে টিকা দেয়া হবে। কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে দুজন প্রশিক্ষিত কুকুর ধারক লোক, একজন টিকাদানকারী, একজন ভ্যান ড্রাইভার নিয়োজিত করা হবে। তারা ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সহযোগিতা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তাবায়ন করবে। প্রথম ধাপে টিকা দেয়া শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে, যা ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ২য় ধাপে টিাকা দেয়া শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।  যা চলবে অক্টোবর পর্যন্ত। প্রথম ধাপে যে সকল ওয়ার্ডে টিকা দেয়া হবে সে ওয়ার্ড নম্বরগুলো হলো ,১৮,১২,১৪,১৫,১৬,১৭,২১,২২,২৩,২৪,২৫,২৬,২৮,২৯,৩৭ ৩১। কর্মসূচির সার্বিক সমš^ সাধন করবেন সিভিল সার্জন চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য সহকারীগণ। 

বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তরা স্মারকলিপি দিলেন মেয়রকে

চট্টগ্রাম- ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা হতে বাদ পরা ভূমি মালিকরা দলিল খতিয়ান পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তারা লক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনে মেয়র দপ্তরে ২৬ ৩৭নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকেরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র  আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এলাকাবাসীর পক্ষে স্মারক লিপি প্রদান করেন মো. জাহঙ্গীর কো:, মো. তবিবু আলম সেলিম, মো. আসফাক, মো. আকরাম, মো. জানে আলম, মো. জসিম উদ্দিন, মো. এনাম, হাজী মো. মহসিন, আবদুচ ছালাম মাষ্টার, মো. শরিফ, মো. মামুন, আনোয়ারুল হক জসিম, মো. আবু তাহের মো. জাফরসহ অন্যরা। সময় চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর মো. আবুল কাশেম, কাউন্সিলর মো. শফিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত নগরীর উত্তর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর এলাকার পিএস বা আরএস মূলে প্রকৃত শতাধিক ভূমির মালিককে অধিগ্রহণকৃত জায়গার ক্ষতিপূরণের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি বলে মেয়রকে অবহিত করেন। তারা বে-টার্মিনাল প্রকল্পের নির্ধারিত এলাকা আংশিক জমি বিএস রেকর্ডভূক্ত হয়েছে বলে জানান। তাই তারা আরএস, পিএস রেকর্ডকৃত মালিক হতে দলিল মূলে কেনা মালিকদের বিএস রেকর্ড প্রচারিত হয় নাই তাদেরকে যৌথভাবে সার্ভের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আওতায় আনার দাবি জানান। মেয়র তাদের দাবি দাওয়াগুলো যৌক্তিকতা আইনি দিক বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপ করেন। তাদের দাবি বিধি বিধানের আলোকে সম্ভাব্য সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মেয়র। প্রসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা প্রদান  করেন। মেয়র বলেন চট্টগ্রাম বন্দর বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতির প্রবেশমুখ।বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে গড়ে উঠা চট্টগ্রাম বন্দর চট্টগ্রামবাসী তথা বাংলাদেশের জন্য সৃষ্টিকর্তার এক অপার দান। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবদন অপরিসীম। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে দেশ আজ সকল ক্ষেত্রে সফল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালীকরণের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হালিশহরস্থ রেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মানের সিদ্ধান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মেয়র উল্লেখ করেন। 

সিটি মেয়রের সাথে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম- ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র  আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, আইনজীবীরা সমাজের সচেতন অগ্রসর ব্যক্তি। সমাজকে সমৃদ্ধকরার জন্য আইনজীবীরা এগিয়ে আসলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত হবো। তিনি বলেন, দেশের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীরা সব সময় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। মেয়র আইনজীবীদের নিয়মিত পৌরকর প্রদানে আন্তরিক হওয়ার আহŸান জানান। তিনি আইনজীবী ভবনের সামনে সৌন্দর্যবর্ধন, কোর্ট বিল্ডিং এর পর্যাপ্ত আলোকায়নের ব্যবস্থা এবং আগামী মাসের মধ্যে আইনজীবী ভবনে দুইটি লিফট স্থাপন করে দেবে বলে আইনজীবী নেতৃবৃন্দকে আশ্বাস দেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে চসিক কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর নেতৃত্বে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে মেয়র কথা বলেন। সময় কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এড. সুরুজ জামাল, সাধারণ সম্পাদক এড. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক এড. এয়াছিন চৌধুরী খোকন, পাঠগার সম্পাদক এড. নুরুল কবির এরফান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এড. হাসনা হেনা, আইটি বিষয়ক সম্পাদক এড. রাশেদুল আলম রাশেদ, সদস্য এড. সেলিনা আক্তার, এড. আকিব চৌধুরী, এড. এনামুল হক, এড. ফারহানা রবিউল লিজাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতকালে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ মেয়রকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। 

সংবাদদাতা

রফিকুল ইসলাম

জনসংযোগ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন