Press Release 26-03-2017


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রাম- ২৬ মার্চ ২০১৭ খ্রি রবিবার

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে

৪৭ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপিত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ৪৭ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস দিনব্যাপি কর্মসূচির মধ্যদিয়ে উদ্যাপিত হয়। দিবসের কর্মসূচিতে ছিল নগর ভবনের বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য দান, স্কুল-কলেজের গাইড, স্কাউট, রোভার, রেঞ্জার, কাব এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। নগরীর বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগর ভবনে জাতীয় পতাকা  উত্তোলন ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করে দিবসের কর্মসূচি সূচনা করেন।  এ ছাড়াও তিনি প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্বাধীনতার শহীদদের স্মৃতির প্রতি পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ৯ টায় বাকলিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্কুল-কলেজের গাইড, স্কাউট, রোভার, রেঞ্জার, কাব এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহন করেন মেয়র। তিনি দিনব্যাপি কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে কর্মসূচির শুরুতে ফেষ্টুন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে বাকলিয়া খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। অনুষ্ঠানে  ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. নুরুল হক, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হারুন উর রশিদ, ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইয়াছিন চৌধুরী আশু, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিসেস ফারজানা পারভিন, আবিদা আজাদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন,প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিসেস সনজিদা শরমিন ও যুথিকা সরকার, উপসচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপুসহ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম, শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান, কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার বিতরণ এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুভ উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হতে হবে। আগামীর বাংলাদেশের নিরাপদ ও সমৃদ্ধির জন্য বর্তমান প্রজন্মকেই দায়িত্ব নিতে হবে। মেয়র শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে উন্নত ফলাফল ও মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে পরামর্শ দেন। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, দীর্ঘ পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জনের দিবস ১৯৭১ সনের ২৬ মার্চ। ৩০ লক্ষ প্রাণের বলিদান এবং প্রায় ২ লক্ষাধিক নারীর ইজ্জত সম্ভ্রম উৎসর্গ এবং ১ কোটি মানুষের সর্বস্ব ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। মেয়র বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত এবং সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। পরে মেয়র কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে অংশ নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিকট পুরস্কার তুলে দেন

 

চট্টগ্রাম- ২৬ মার্চ ২০১৭ খ্রি রবিবার

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক

ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন

অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি, বিভক্তি ও বিভাজন মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে।

৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর ১০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও গুনী ব্যক্তিকে স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক প্রদান করে। ২৬ মার্চ ২০১৭খ্রি. রবিবার, বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধে মোখতার আহমদ (মরনোত্তর), স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূপতি ভূষন চৌধুরী (মানিক চৌধুরী মরনোত্তর), সাংবাদিকতায় আতাউল হাকিম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়য়া (মরনোত্তর), চিকিৎসায় ডা. ফজলুল আমীন (মরনোত্তর), শিক্ষায় বেগম হাসিনা জাকারিয়া, শিশু চিকিৎসায় ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, নারী জাগরনে বেগম রুনু সিদ্দিকি (মরনোত্তর), সমাজ সেবায় সাফিয়া গাজী রহমান ও ক্রীড়ায় মোজাম্মেল হক কে স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মরনোত্তরদের পক্ষে স্বাধীনতা সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন মোখতার আহমদ এর পক্ষে তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন, মানিক চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে দিপঙ্কর চৌধুরী কাজল, ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়য়ার পক্ষে তার কন্যা ফাল্গুনী বড়য়া, ডা. ফজল আমীন এর পক্ষে তার ছেলে ডা. আরিফুল আমীন এবং বেগম রুনু সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে শবনব সিদ্দিকী। স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন ও চট্টগ্রাম প্রসেক্লাব সভাপতি মো. কলমি সরওয়ার।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর সালেহ আহমদ চৌধুরী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিসেস আবিদা আজাদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন,নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সনজিদা শরমিন, যুথিকা সরকার, উপসচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেনমোখতার আহমদ এর পক্ষে তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন, মানিক চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে দিপঙ্কর চৌধুরী কাজল, ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়য়ার পক্ষে তার কন্যা ফাল্গুনী বড়য়া, ডা. ফজল আমীন এর পক্ষে তার ছেলে ডা. আরিফুল আমীন এবং বেগম রুনু সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে শবনব সিদ্দিকী এবং আতাউল হাকিম, প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, মিসেস সাফিয়া গাজী রহমান এবং মোজাম্মেল হক। পদক প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, গুনীদের মূল্যায়ন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মর্যাদা সমুন্নত রাখতেই এ পদক প্রদান কর্মসূচি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রামের সুতিকার। মহান মুক্তিযুদ্ধ চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয় এবং জাতির জনকের পক্ষে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা করেন জননেতা এম এ হান্নান। চট্টগ্রাম ব্রিটিশ ও পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের তীর্থস্থান এবং গনতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন এ প্রসঙ্গে বলেন,  স্বাধীনতার পর ৪৬ বছর একটি দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এসময়ে যেটুকু অর্জণ করার প্রয়োজন ছিল তা আমরা পারিনি। অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি, বিভক্তি ও বিভাজন মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে পরচর্চা, পরনিন্দা এবং পরের সমালোচনা পরিহার করে আত্ম সমালোচনায় অভ্যস্ত হলে দেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আমাদের সকলকে সত্য বলা, সাদাকে সাদা বলা,কালোকে কালো বলা এবং মন্দকে মন্দ হিসেবে আখ্যায়িত করার মানষিকতা অর্জন করতে হবে। তাহলেই কাংখিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকাকে স্তব্দ করতে ১৯৭১ সনের পরাজিত অপশক্তি অপতৎপরতায় এবং ষড়যন্তে লিপ্ত। মেয়র বলেন, চরমপন্থী, জঙ্গী ও সন্ত্রাসীরা বিদ্যমান শান্তি ও স্থিতিশীলতা নসাৎ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত তাদেরকে প্রতিহত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি চট্টগ্রামকে নিরাপদ, স্থিতিশীল, ক্লিন, গ্রিন ও স্মার্ট সিটিতে পরিনত করার কর্মপরিকল্পনায় গুনী ও বিশিষ্ট জনদের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে রচনা, সাধারণ নৃত্য, দেশের গান, উপস্থিত বক্তৃতা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪৮ জনের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

 

 সংবাদদাতা

মো. আবদুর রহিম

জনসংযোগ কর্মকর্তা