Press Release 31-01-2019

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

জনসংযোগ শাখা

চট্টগ্রাম।

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

 

বারই পাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন নিয়ে মতবিনিময়

অধিগ্রহনকৃত ভূমি মালিকরা মৌজা মূল্যের

৩ গুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন : মেয়র

চট্টগ্রাম- ৩১ জানুয়ারি-২০১৯ ইংরেজী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দীন নগরীর জলাবদ্ধাতা নিরসনে খাল খননের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে বৃহত্তম বাকলিয়া এলাকায় জনসাধারনের সহযোগীতা কামনা করেছেন। তিনি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্পোরেশনের কে বি আবদুচ সাত্তার মিলনায়তনে বহদ্দারহাট বারইপাড়া  থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত প্রস্তাবিত খাল খনন প্রকল্পের এলাইনমেন্টের পূর্ব বাকলিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের সাথে মতবিনিময় কালে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পূর্ব বাকলিয়া ওর্য়াডের কাউন্সিলর হারুন উর রশিদ, সংরক্ষিত ওর্য়াডের কাউন্সিলর ফারজানা পারভীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লেঃ কর্নেল মহিউদ্দীন আহমদ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত¡বধায়ক প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, এস্টেট অফিসার এখলাছুর রহমান, নির্বাহি প্রকৌশলী ফরহাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় পূর্ব বাকলিয়া এলাকার প্রায় শতাধিক ভূমি মালিক উপস্থিত ছিলেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা মেয়রের কাছে তাদের বিভিন্ন আশংকার কথা তুলে ধরেন।

মেয়র ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের অনুসরনে প্রকল্পের সম্পূর্ণ জমি অধিগ্রহন পূর্বক নতুন প্রস্তাবনার আলোকে এই খাল খনন করা হবে। এজন্য ২৫ একর জমি অধিগ্রহন করা হবে। আর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা মৌজা মূল্যের গুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২৬ কোটি ৮৪ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা। সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে হাজার ২শত ৫৬ কোটি ১৫লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। আগামী বছরের ৩০জুনের মধ্যে এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।  সংশোধিত প্রকল্পটি ২০১৮ এর নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী নান্দনিক দিক বিবেচনায় খালের দুইপাশে প্রয়োজনীয় বাড়তি জায়গা অধিগ্রহন করে ওয়াকওয়ে নির্মাণের নির্দ্দেশনা দিয়েছেন।২. কিলোমিটার দীর্ঘ ৬৫ ফুট প্রস্থ এই নতুন খাল খননকালে এর দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। এর দুই পাশে ২০ফুট করে সড়ক এবং ফুট করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।

 

মেয়র বাকলিয়াবাসী নিজেদের দুঃখ দুর্দ্দশা লাঘবে সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে নতুন এই খাল খননে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে  সর্বোচ্চ সহযোগীতা করবেন বলে প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন খাল খননের জন্য  যে সকল ভূমির মালিকের ভূমি অধিগ্রহন করা হবে তাদের টাকা যথাযথ প্রক্রিয়ায় মৌজা মূল্যের গুন নির্ধারন করে পরিশোধ করা হবে। ক্ষেত্রে  এক চুল পরিমান অনিয়মের কোন সুযোগ থাকবে না। কোন ভূমি মালিকের কোন ভবন যদি প্রকল্পের প্রস্তাবিত এলাইনন্টের মধ্যে পড়ে, তবে তাদেরকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়মনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।এ সময় মেয়র ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি সময় আমি যা বলি, তা করি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের আতংকিত হওয়ার কোন কারন নাই। আপনারা অবশ্যই আপনাদের ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন। ক্ষতি পুরনের টাকা পায় টু পায় বুঝিয়ে দেয়া হবে। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের বেশ কয়েকজন আবেগপ্রবন হয়ে তাদের বিভিন্ন আশংকার কথা মেয়রের কাছে তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে বেশ কজন ভূমি মালিক বলেন যে সকল ভূমি মালিকের পুরো ভূমি অধিগ্রহনের আওতায় পড়বে তাদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করে এদের কিভাবে পুর্ণবাসন করা যায়, তা ভেবে দেখতে মেয়রকে অনুরোধ করেন। তারা বলেন অঞ্চলের অনেক অধিবাসীর জীবন জীবিকা কর্ণফুলীর সাথে জড়িয়ে আছে। নতুন খাল খননের জমি অধিগ্রহনের কারনে তারা যখন নিজেদের পৈত্রিক ভিটা হারাবেন তখন তাদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি হুমকির মুখে পড়বে। কারন যুগ যুগ ধরে জলের সাথে এসকল মানুষের জীবন জীবিকা জড়িয়ে আছ্ েখাল খনন ছাড়াও লিংক রোড নির্মানের কারনে এলাকার যে সকল অধিবাসিরা পাকা ভবনের অর্ধেক প্রস্তাবিত এলাইনমেন্টের মধ্যে পড়েছে সে সকল ভবনের স্যানিটেশন ব্যবস্থা কি হবে সে ব্যাপারে মেয়রকে প্রশ্ন করেন। তাদের প্রস্তাবও বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিটি মেয়র বিষয়গুলো সুবিবেচনায় থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

 

নগরীর দেওয়ান বাজার চান্দগাঁ ওয়ার্ডে  কম্বল  বিতরণ করলেন মেয়র

দারিদ্রতা থেকে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম হলো শিক্ষা

শিক্ষার জন্য মা-বাবাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে

চট্টগ্রাম -৩১শে জানুয়ারি-২০১৯ইংরেজী।

নগরীর দেওয়ান বাজার চান্দগাঁ ওয়ার্ডের অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে  প্যারাগন  কনভেনশন  হল  এবং বিকেলে চান্দগাঁ হামেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কম্বল বিতরন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব ...নাছির উদ্দীন। চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সভাপতিত্বে দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড আয়োজিত সভায় সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিসেস আনজুমান  আরা বেগম ,সাবেক কমিশনার আবু বকর সিদ্দিকী, রতন দাশ,আমিনুল হক মোহাম্মদ ইকবাল বক্তব্য রাখেন। অপর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর  মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু এতে বক্তব্য রাখেন দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ এর সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক ,আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসা হুমায়ুন কবির   অনুষ্ঠানে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবগ উপস্থিত ছিলেন। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার গরীব বান্ধব সরকার বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনির আওতায় দারিদ্র বিমোচন করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে  দেশের অস্বচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটে। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধরাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য নগরীবাসীর  প্রতি কর্তৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন সিটি মেয়র তিনি বলেন  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ দেশের মানুষের জন্য আার্থ -সামাজিক উন্নয়নে রাজনীতি করে।  তিনি আরো  বলেন  তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান আমলে এদেশে লোক সংখ্যা ছিল কোটি   দেশে  এখন ১৭ কোটি মানুষ। তৎকালিন সময়ে খাদ্যের জন্য দেশে হাহাকার ছিল। অনেক সময় খাদ্যের জন্য মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে  ছিল এমনকি অনেক সময় খাদ্যের জন্য মানুষ মারাও যেত। সেক্ষেত্রে  দেশ এখন  খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ। এমনকি ১৭ কোটি মানুষের অন্ন যোগান দিয়ে সরকার বিদেশেও রফতানি করছে খাদ্য মেয়র বলেন দারিদ্রতা থেকে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম হলো শিক্ষা। এই শিক্ষার জন্য মা-বাবাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। স্কুলে যাওয়ার যাদের বয়স হয়েছে তাদেরকে নিকটস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়ার জন্য সন্তানের অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান সিটি মেয়র এই প্রসংগে মেয়র বলেন  আমাদের সন্তানদের সঠিকভাবে শিক্ষার জন্য স্কুলে পাঠান,তারা যেন আলোকিত মানুষ হয়ে দেশ জাতির মঙ্গল করতে পারে। মেয়র অভিভাবকদের উদ্দেশ্য বলেন আপনি দারিদ্রতার জন্য ছেলে-মেয়ের লেখা পড়া করাতে পারছেন না সেক্ষেত্রে সরকার এগিয়ে এসেছে তাই আপনি সরকারের গৃহীত সমাজিক সুরক্ষা নীতি গ্রহন করুন এতে পঞ্চম শ্রেনী থেকে কলেজ পর্যন্ত উপবৃত্তি চালূ রয়েছে। এই উপবৃত্তির টাকা দিয়ে আপনার সন্তান লেখা পড়া শেষ করতে পারবে।এই ভাবে বর্তমান সরকার দেশের বিশাল জনগোষ্টিকে শতভাগ শিক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারে উদ্যোগ সফল হলে দেশের আর কোনো দরিদ্র থাকবে না। এর মধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া সরকারে উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে  উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বঙ্গবন্ধু লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে  বলে তিনি  উল্লেখ করেন।

বার্মা কলোনী জামে মসজিদ: এদিকে চান্দগাঁ যাওয়ার প্রাক্কালে মেয়র হামজার বাগ হিলভিউ সোসাইটি সংলগ্ন বার্মা কলোনী জামে মসজিদের সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করেন   এই সম্প্রসারন কাজে ব্যয় হচ্ছে প্রায়  ৪০ লক্ষ টাকা। স্থানীয় জনসাধারণ   নগরীর বিত্তশালীদের আর্থিক সহায়তায় এই মসজিদ কাজ নিমিত হচ্ছে। 

 

 

সংবাদদাতা

রফিকুল ইসলাম

জনসংযোগ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন